FeniNews

করোনা ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়


মো: সাঈদ হোসেন পারভেজ:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় গত ১৬ মার্চ ২০২০ খ্রি. এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক ভাবে ১৮ থেকে ৩১ মার্চ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আদেশ জারি করে। যা পরবর্তিতে কয়েক দফা বর্ধিত করে এখনো বলবত আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের এই আদেশ সাদরে গ্রহণ করে বাংলাদেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়।

যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীর বেশীরভাগই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা, সেহেতু বন্ধ ঘোষনা পেয়েই তারা মনের আনন্দে যারযার বাড়িতে সাধারণ ছুটির মত চলে যায়। মূলত এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম অনেকাংশে অচল হয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় এর পরিকল্পনাবিহীন এই আদেশ জারির ৬ দিন পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চালিয়ে নেয়ার জন্য এর নিয়ন্ত্রক ইউজিসি, ঐচ্ছিক ক্লাশ পরিচালনার একটি বিজ্ঞপ্তি (সদস্য, অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত) প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বাংলাদেশ গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিডিরেন) ডাটা সেন্টারে স্থাপিত জুম অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ১৪৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।আগ্রহী শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মাধ্যমে যোগাযোগ করে এটি ব্যবহার করতে পারবেন (তথ্য সুত্র: সময় নিউজ টিভি)। একই বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তা সাময়িকভাবে পূরণের লক্ষ্যে সম্মানিত শিক্ষকগণকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে বলা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে অনেক গুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন এপ্লিকেশন ব্যাবহার এর মাধ্যমে অনলাইন এ ক্লাশ নেওয়া শুরু করে। কিন্তু গত ৬ এপ্রিল আবারও এক বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানায় ইউজিসি। এই অবস্থায় বেশীর ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন ভাবে ক্লাশ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে এবং অনেকাংশে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষকমণ্ডলী শুরুই করেননি। কিন্তু এইসময়ের মধ্যে অনেক গুলো বিশ্ববিদ্যালয় এর সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়ে নতুন সেমিস্টার শুরু হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ইউজিসির বাধ্যবাধকতার কারনে তাও করা সম্ভবপর হয়নি।

অন্যদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সাধারণত কোনো সরকারি অনুদান পায় না, শিক্ষার্থীদের প্রদেয় বেতন দিয়ে শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে থাকে। সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে একটা হযবরল অবস্থা এবং শিক্ষার্থীরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন। অপর দিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ও আর্থিকভাবে গভীর সংকটের মুখে। যদি প্রথম থেকে মন্ত্রনালয় ও ইউজিসি, পুরো বিষয়টা আরো বিচক্ষন ও দক্ষতার সহিত সিদ্ধান্ত নিতো তাহলে বর্তমান সময়ের অনেক গুলো সমস্যা আমাদের দেখতে হতো না।

প্রাথমিক ভাবে মন্ত্রনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আদেশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাদ দিয়েই করতে পারতো। সেইক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে এর নিয়ন্ত্রক ইউজিসির উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যেতো। পরবর্তীতে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস ক্লাস বাতিল করে এর শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চালিয়ে নেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারতো। তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা মনের আনন্দে সাধারণ ছুটির মত যারযার বাড়িতে চলে যেত না। গেলেও তারা পড়ালেখার মধ্যেই থাকতো।

এখন যেমন অনলাইন এর এই কার্যক্রম ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তখন এটা এমন ভাবে হতো না। করোনা মহামারীর কারনে বিশ্বের বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের মতো ঢালাওভাবে বন্ধ ঘোষনা করেনি, তারা তাদের ক্যাম্পাস ক্লাশ বাতিল করে অনলাইনে কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে। বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার এর একদিন ও হেরপের না করে খুবই চমৎকার ভাবে করোনার এই দুর্যোগকালেও একাডেমিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

অনেকই বলবে উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান তা আমাদের নেই। এটা অনেকখানিই সত্যি! তবে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অনেক ফ্রি এপ্লিকেশন পাওয়া যায় যা দিয়ে খুব সহজেই অনলাইন কার্যক্রম (ক্লাশ, পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন) চালিয়ে নেওয়া যায়। শুধু প্রয়োজন ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি যন্ত্র (ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন, ইত্যাদি) । বর্তমানে সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট এর পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

ছাত্রছাত্রীরা খুব সহজেই এইসব ব্যাবস্থা করে তারা সতস্ফুর্ত ভাবে অনলাইন কার্যক্রম এ অংশগ্রহণ করতে পারতো। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এই অবস্থায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত যেন আরো হুমকির মধ্যে না পড়ে তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে এখনই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।বিশেষ করে ইউজিসি।

অনলাইন কার্যক্রমকে শুধু ক্লাশ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন এর অনুমতি প্রকাশ করতে পারে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রমজানের বাকি সময়টাতে অনলাইন ক্লাশকে আরো জোরদার করে এই সেমিস্টার এর বাকিটুকু সিলেবাস শেষ করে নিতে পারবে। এজন্য স্বাভাবিকভাবে ক্যাম্পাস ক্লাশ এর যে রুটিন আছে সেটা অনুসরণ করে সকল শিক্ষক তাঁদের ক্লাস নিতে পারে। তাহলে ছাত্রছাত্রীরা নিজ বাসায় বসে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস এ অংশগ্রহণ করতে পারবে।

এইক্ষেত্রে শিক্ষক মণ্ডলী ব্যাবহারিত এপ্লিকশনটির ফিচারগুলো ব্যাবহার করে ক্লাশকে অনেক বেশী ইন্টরেক্টিভ করতে পারে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি লাইভলি ক্লাশ করতে পারবে। পরবর্তীতে যারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না তাদের জন্য রেকর্ডেড লেকচার সরবরাহ করলে অনুপস্থিতির ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

এবং রমজানের শেষের দিকে অনলাইনেই পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করে চলতি সেমিস্টার শেষ করতে পারে। অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহনের অনেক গ্রহণযোগ্য এপ্লিকেশন আছে। এক্ষেত্রে ইউজিসি যদি ইউরোপ, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর অনলাইন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি গাইডলাইন তৈরি পূর্বক সরবরাহ করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করতে পারবে। এবং শিক্ষার্থীরাও একটি দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটের হাত থেকে বেঁচে যাবে। এই পদ্ধতি যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর জন্য খুব বেশী অসম্ভব হয় তাহলে কমপক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রয়োগ করে চলতি অচলাবস্থা অনেকটা নিরসন সম্ভব হবে ।

লেখক: মো: সাঈদ হোসেন পারভেজ সহকারী অধ্যাপক (শিক্ষা ছুটিরত), ফেনী ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থী (সুইডিশ ইন্সটিটিউট স্কলারশিপ), উপ্সালা ইউনিভার্সিটি, সুইডেন।



প্রকাশঃ বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০, ১০:২৭ অপরাহ্ন


ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় দুই দল ডাকাতের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে এক ব্যক্তি নিহত... বিস্তারিত

ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দিতে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে "ঈদের সাজে ছোট্ট সোনামণির... বিস্তারিত

ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দিতে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে "ঈদের সাজে ছোট্ট সোনামণির... বিস্তারিত

পবিত্র ঈদুল আযহা ২০২০ইং উপলক্ষে ছাগলনাইয়া উপজেলার অস্বচ্ছল ও অসহায় মানুষদের মাঝে... বিস্তারিত

“।শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুদা হবে নিরুদ্দেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পবিত্র... বিস্তারিত

আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও ফেনী ইউনিভার্সিটি... বিস্তারিত

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ছাগলনাইয়া... বিস্তারিত

‘সবুজে বাঁচি,সবুজে বাঁচাই,নগর প্রাণ প্রকৃতি সাজায়’এই স্লোগানে শুভপুর সমাজ কল্যাণ... বিস্তারিত

জাতীয় সংসদের ২৬৫ ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার এর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান... বিস্তারিত