FeniNews

জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে লিফটনের পথেই হাটছেন বাশার!


জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে লিফটনের পথেই হাটছেন বাশার!

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলিত বছরের শেষ দিকে অথবা ২০১৯ সালের প্রথমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনে আওয়ামীলীগের মনোয়ন প্রত্যাশীদের আনাগোনা বেড়ে যাচ্ছে। অনেক মনোয়ন প্রত্যাশী রয়েছে যাদের কে সংসদ নির্বাচনের আগে মাঠে তৎপর দেখা গেলেও নির্বাচনের পর তৃনমূলের নেতা কর্মীরা তাদের আর খুঁজে পায়না এমন অভিযোগ জোরেশোরে প্রকাশ পাচ্ছে সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীদের কন্ঠে ।

সোনাগাজীতে গত কয়েক মাসে মনোয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারাই এসেছেন তারাই নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ক্ষোভ মিশ্রিত প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছে।কিন্তু মনোয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শুধুমাত্র একজনই তৃনমুল নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছে। সংসদীয় আসনের সর্ব শ্রেনীর নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন। তিনি ২০০৭ সালে বাতিল হওয়া অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় থেকে দীর্ঘ ১১ বছর অদ্যাবধি সময় পর্যন্ত সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীদের ভালো-মন্দ, পাওয়া-না পাওয়া, সুখ-দু:খের সাথে একটানা মিশে রয়েছে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

চলিত বছরের শুরুর দিকে ফেনী-৩ আসনে শাষক দলের মনোয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় আগমন শুরু করে মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। তার পৈত্রিক বাড়ী সোনাগাজীর চরছান্দিয়া ইউপিতে অবস্থিত হলেও তৃনমুলের সাথে তার কখনো সংযোগ ছিলোনা। বছরের শুরু থেকে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সংসদীয় আসনের তৃনমুলের নেতাকর্মীদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাসার ২০০৮ সালের পূর্বে ফেনী-৩ আসনের নেতাকর্মীদের মাঝে তেমন পরিচিত ছিলেন না। পৈত্রিক বাড়ী দাগনভুঞা উপজেলাতে অবস্থিত হলেও তিনি ঢাকা মহানগর যুবলীগ রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোয়ন প্রত্যাশী ৬ জন কে টপকে আবুল বাসার ফেনী-৩ আসনে আওয়ামীলীগ মনোয়ন পান। সে নির্বাচনে সারা দেশে আওয়ামীলীগের ভুমিধস বিজয়ের মধ্যেও আবুল বাসার নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয়ী হতে পারেনি। নির্বাচনে সোনাগাজীতে তিনি বিপুল ভোট পেলেও তার নিজ উপজেলা দাগনভুঞাতে তিনি শোচনীয় পরাজয় বরন করেন। স্থানীয় নেতাদের ভেলকিবাজি বুঝতে না পারা এবং দাগনভুঞার নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারনে আবুল বাসার পরাজিত হয়েছিলেন বলে বিশ্লেষনে দেখা গেছে। যদিও ওই নির্বাচনে আবুল বাসার জয় পেতে সব চেষ্টাই করেছিলেন। পরাজিত হয়ে অনেকটা ক্ষোভ ও অভিমানে তিনি এলাকা বিমুখ হয়ে ঢাকাতে ব্যবসা ও রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন এবং এক পর্যায়ে তৃনমুল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।তবে তিনি দুই উপজেলার হাতেগোনা কয়েক নেতার সাথে ব্যাক্তিগতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন। অপরদিকে দলীয় মনোয়ন পেতে ব্যর্থ হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক সোনাগাজীর নবাবপুরের বাসিন্দা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন তুনমুল নেতাকর্মীদের সাথে নীবিড় যোগাযোগ রেখে সংসদীয় আসনটিতে শক্ত অবস্থান তৈরী করে। বঞ্চিত, লাঞ্চিত, নীপিডিত, অবহেলিত নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠে জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশের ন্যায় সোনাগাজী ও দাগনভুঞাতে বিএনপি জামায়াত জোটের হরতাল অবরোধ ও ভয়াবহ নাশকতার সময়েও তাকে নেতাকর্মীরা কাছে পেয়েছে।সে নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন চেয়ে আবারও ব্যার্থ হন লিফটন। তৃনমুলে যোগাযোগ না রেখেও আবারো মনোয়ন পান আবুল বাসার। কিন্তু তত্তাবধায়ক সরকারের দাবীতে বিএনপি জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জন করে প্রতিহতের ঘোষনা দিলে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোয়ন পান জাতীয় পার্টির নেতা রিন্টু আনোয়ার। আবুল বাসার দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাড়ালেও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতা হাজী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বচনে প্রতিদ্ধন্ধিতাকরা করে রিন্টু আনোয়ার কে হারিয়ে জয়লাভ করে। বিএনপি জামায়াত জোটের ভোট বর্জনের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ১৫৩ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় জয়লাভ করে। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে জেলা আওয়ামীলীগ মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারের পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহর পক্ষে কাজ করলে তিনি জয়লাভ করেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত মেনে আবুল বাসার মনোয়ন প্রত্যাহার করে পূর্বের ন্যায় তৃনমুলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঢাকার রাজনীতিতে থিতু হন। অপরদিকে দলীয় মনোয়ন পেতে ব্যার্থ হলেও জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন সংসদীয় আসনের তৃনমুল নেতাকর্মীদের সাথে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশী যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন। স্থানীয়ভাবে তিনি উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগনের মাঝে তুলে ধরে। গত সাড়ে চার বছর তিনি সোনাগাজী-দাগনভুঞার প্রতিটি এলাকায় গনসংযোগ অব্যহত রাখেন।স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দলের মুল স্রোতধারার সাথে নিজেকে যুক্ত রেখে তৃনমুলে আওয়ামীলীগ কে সংগঠিত করেন। যার কারনে বঞ্চিত, লাঞ্চিত, নিপিড়িত, অবহেলিত নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতিক হয়ে উঠেন লিফটন। ভদ্র,নম্র ও ক্লিন ইমেজের কারনে আওয়ামী সমর্থকদের বাইরে সাধারন জনগনের মাঝে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি লিফটন কে কেন্দ্রীয় রাচনীতিতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে এগিয়ে এসে তিনি সোনাগাজী-দাগনভুঞার তৃনমুলে স্থায়ী আসন গ্রহন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন তৃনমুলের সাথে সংযোগ না রাখলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লিফটনের অনুসরন করা পথেই হাটছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল বাশার। লিফটন দীর্ঘ সময় তৃনমুলের সাথে থাকলেও তিনি হঠাৎ তৃণমূলে এসে সভা-সমাবেশ শুরু করছেন। তার এই আগমনকে ঘিরে (সোনাগাজী-দাগনভূঁঞা) আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তৃনমুল নেতাকর্মীদের অভিযোগ বিএনপি-জামায়াত যখন সোনাগাজী-দাগনভুঞাতে অরাজকতা সৃষ্টি করছিলো তখন উনি কোথায় ছিলেন? ২০০৯ সালেপরাজিত হয়ে চলে গিয়ে ২০১৪ সালে ভোটে কোথায় ছিলেন? ২০০৯ সালে পরাজিত হয়ে চলে গিয়ে ২০১৪ সালে ভোটের সময় এসেছে।তখন চলে গিয়ে এখন ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার কারনে তিনি আবার আসতেছেন। আবার ভোট শেষে চলে যাবে। নেতাকর্মীদের সুখ দু:খের খবর নিবেনা, তিনি আসা যাওয়ার উপর থাকলে সংগঠনেরতো কোন লাভ হবেনা।

ক্ষুব্ধ কয়েক জন আওয়ামীলীগ নেতা বলেন বাসার ভাই হঠাৎ তৃনমূলে আসায় আমরা অবাক হয়েছি। উনাকে চার বছরে কোন দিন কাছে পাওয়া যায়নি। কিন্তু আসন্ন সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে তিনি মাঠে এসে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি টাকা খরছ করে বিভিন্ন সমাবেশে মানুষের জমায়েত ঘটিয়ে তা কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি লাভের চেষ্টা চালাচ্ছেন। উনি ভালো মানুষ, দলীয় নেতাকর্মীদেে ক্ষতির যেমন কারন হয়নি তেমনি উপকারেও আসেনি। উনি যোগাযোগ রেখেছেন হাতেগোনা কয়েক নেতার সাথে।

ছাত্রলীগের এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- এখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই অনেক নেতা তৃণমূলে ছুটে আসছে। এত দিন তৃণমূলের কোন নেতাকর্মীর খোঁজখবর তারা রাখেননি।শুধু ভোটের সময় আসবে এ ধরনের নেতা আমাদের প্রয়োজন নেই। যারা দুর্দিনে আমাদের পাশে ছিল, এখনো তারা আমাদের পাশে থাকবেন। আমরা তাদের হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে কাজ করে প্রিয় নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে আবারো ক্ষমতায় বসাবো।



প্রকাশঃ রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০১:২৩ অপরাহ্ন



ফেনীতে ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করলো ইলামিত্র যুব মহিলা... বিস্তারিত

ফেনীতে মিলন মেলা তৈরী হয় দেশী পণ্যের নারী উদ্যোক্তাদের। শনিবার (২৩ জানুয়ারী)... বিস্তারিত

আসন্ন ৩০ জানুয়ারীর ফেনী পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ধানের প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে... বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার ও ফেনী ইউনিভার্সিটিরি ট্রাস্টি বোর্ডের... বিস্তারিত

ছাগলনাইয়া পৌর শ্রমিক দলের এক মতবিনিময় সভা ২১জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলেজ... বিস্তারিত

৩০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে (মঙ্গলবার) সকালে ১০ নং ওয়ার্ডে... বিস্তারিত

আসন্ন ৩০ জানুয়ারি ফেনী পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে পৌর এলাকার অলি-গলিতে... বিস্তারিত

ফেনীকে ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চান আওয়ামীলীগ সমর্থিত পৌর মেয়র... বিস্তারিত

সোনাগাজী প্রেসক্লাব ২০২১ সালের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে দৈনিক সকালের সময়... বিস্তারিত